অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ-বিক্ষোভ অব্যাহত। শুক্রবারও একাধিক জায়গায় বঞ্চিত মহিলারা পথ ও রেল অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রীরাও মাঠে নামছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর বিক্ষোভকারী মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হয় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীনই একদল মহিলা প্রশাসনিক ভবনের নীচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বুঝে বৈঠক ছেড়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে নীচে নেমে আসেন মন্ত্রী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার কোনও কিস্তির টাকা পাননি। শুধু টাকা না পাওয়াই নয়, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এসডিও অফিস থেকে পুরসভায় এবং পুরসভা থেকে ফের এসডিও অফিসে পাঠানো হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠে আসে।
মহিলাদের অভিযোগ শোনার পর বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা পাল। সমস্যার সমাধানে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগের জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে—তাই কিছুটা সময় দেওয়ার আবেদন জানান মন্ত্রী।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল সরকার মহিলাদের বিপুল সংখ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা দেওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে সরকারি সুবিধা পাওয়ার একটি অভ্যাস তৈরি হয়েছে।
দিলীপের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নিয়ম রয়েছে। সেই মানদণ্ডের মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরাই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। প্রত্যেকের জন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা বরাদ্দ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর এই মন্তব্যের পর অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া মহিলাদের ক্ষোভের আবহে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একদিকে টাকা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা, অন্যদিকে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক চাপানউতোর—দুইয়ের জেরে অন্নপূর্ণা যোজনা এখন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।

No comments:
Post a Comment