ন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ আগস্ট ২০২৬: আয়রন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের পর সেটিতে আগুন ধরে যায়। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলায় ঘটেছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের পর স্পঞ্জ আয়রনের কারখানাটিতে আগুন লেগে যায়। সেখানে কর্মরত তিনজন ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় কারখানা চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, পাত্রাতু ব্লকের বারকাকানা ওপি এলাকার অন্তর্গত হেহেলে এই কারখানাটি অবস্থিত। এই কারখানার পাওয়ার প্ল্যান্টে হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উপস্থিত তিনজন ইঞ্জিনিয়ার গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। পরবর্তীতে তাঁদের মৃত্যু হয়।
মৃতদের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন রাঁচির বাসিন্দা ও কারখানার শিফট ইনচার্জ ৫০ বছর বয়সী সঞ্জীব কুমার কেশরী, বোকারোর বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী বিনীত মাহাতো এবং গাড়ওয়ার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী অভিষেক পান্ডে। এই দুর্ঘটনায় শ্রমিক তরুণ রাজওয়ার গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য রাঁচি রোড স্থিত এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি হাজারিবাগের বাসিন্দা।
খবর পেয়ে কারখানার কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রামগড় থেকে চার-পাঁচটি দমকলের গাড়ি ডেকে এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকাল থেকেই কারখানার গেটে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ভিড় জমছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তদন্ত করছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বারকানা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক উমাশঙ্কর ভার্মা জানান, কারখানায় কাজ করার সময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাঁচিতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে পাওয়ার প্লান্টের বিভিন্ন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছিল। সমস্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায় এবং টারবাইন অতিরিক্ত গতিতে ঘুরতে শুরু করলে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার পর, প্লান্টের একজন কর্মচারী অমিত ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, পাওয়ার প্ল্যান্টের কন্ট্রোল রুমের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছিল এবং এসি বিকল হয়ে যাওয়ায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কর্মচারীরা বারবার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। তারা বলেন, টেম্পারেচার গান দিয়ে নিয়মিত তাপমাত্রা মেপে ব্যবস্থাপনাকে পাঠানো হলেও কন্ট্রোল রুমের শীতলীকরণ ব্যবস্থা মেরামত করা হয়নি।
কর্মচারীদের অভিযোগ, যদি সময়মতো এসি মেরামত করা হতো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হতো, তাহলে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা হয়তো ঘটত না। এই দুর্ঘটনা শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত, মৃতের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহত কর্মচারীর উন্নত চিকিৎসার দাবী জানিয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment