ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৬ আগস্ট ২০২৬: তিব্বত থেকে আসা হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। নেপালের রাসুয়া জেলায় এর জেরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৪১ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত থেকে নেপালে প্রবেশ করা ভোতে কোশী নদীর হঠাৎ জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় বাজার এবং বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ডুবে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে, স্থানীয় প্রশাসন ত্রিশূলী নদীর নিম্ন অববাহিকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি করেছে।
কাঠমান্ডু পোস্ট রাসুয়া জেলার প্রধান জেলা আধিকারিক নরেন্দ্র পারিয়ারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, বন্যার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, জেলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনও বৃষ্টিপাত হয়নি এবং আবহাওয়া পরিষ্কার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নদীর উজানে কোনও হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়া বা অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে এই আকস্মিক বন্যা হতে পারে। প্রশাসন জানিয়েছে, বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অজয় শ্রেষ্ঠা বলেন, জলের স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে, মনে হচ্ছিল যেন হঠাৎ একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। এই বন্যায় চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর স্রোতের কারণে নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার ভাটির এলাকাগুলোও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের কারণে তিমুরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য পাঠানো অল্টিটিউড এয়ারের একটি হেলিকপ্টার অবতরণ না করেই কাঠমান্ডুতে ফিরে এসেছে। পাইলট জানিয়েছেন, প্রবল স্রোতে তিমুরের স্থানীয় হেলিপ্যাডটি সম্পূর্ণভাবে ভেসে যাওয়ায় সেখানে অবতরণের জন্য কোনও নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই। আকাশ থেকে বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে পুরো তিমুরে গ্রামটি প্রায় অদৃশ্য ছিল। প্রশাসন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

No comments:
Post a Comment