লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৮ আগস্ট ২০২৬: জল আমাদের শরীরের অন্যতম অপরিহার্য একটি উপাদান। প্রতিটি কোষ, কলা এবং অঙ্গের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য জলের প্রয়োজন হয়। এটি শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে, পুষ্টি পরিবহন করে এবং বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে। শ্বাস-প্রশ্বাস, ঘাম এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে সারাদিন শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়। এই পরিমাণ জলের ঘাটতি পূরণ না হলে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং দুর্বলতার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা উচিৎ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কতটা জল পান আবশ্যক।
আমাদের প্রতিদিন কতটা জল পান করা উচিৎ?
একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২.৭ থেকে ৩.৭ লিটার তরল প্রয়োজন। এর মধ্যে শুধু সাধারণ জলই নয়, চা, কফি, দুধ, ফলের রস এবং খাবার থেকে প্রাপ্ত জলও অন্তর্ভুক্ত। খাবার থেকে শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ জল পাওয়া যায়। তাই, প্রত্যেকের জন্য প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪ লিটার সাধারণ জল পান করা আবশ্যক নয়।
ডিহাইড্রেশন কীভাবে চিনবেন?
শরীরে ডিহাইড্রেশন হলে প্রথমে তৃষ্ণা পায় এবং প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে প্রস্রাব হালকা হলুদ বা স্বচ্ছ থাকে। জলশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরাও সাধারণ ব্যাপার। জলশূন্যতা গুরুতর হলে, এটি চিন্তা করতে অসুবিধা বা উদ্বেগের মতো গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।
কাদের বেশি জল প্রয়োজন?
যারা ঘন ঘন ব্যায়াম করেন বা যাদের প্রচুর ঘাম হয়, তাদের বেশি জল পান করা উচিত। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়ও জলের চাহিদা বাড়ে। বমি, ডায়রিয়া বা জ্বরের কারণে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যায়, ফলে বেশি করে তরল পান করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। গর্ভকালীন এবং স্তন্যদানের সময় মহিলাদেরও বেশি জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু কিডনি এবং মূত্রনালীর সমস্যার জন্যও ডাক্তাররা বেশি জল পান করার পরামর্শ দেন।

No comments:
Post a Comment