ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ আগস্ট ২০২৬: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি। উদ্বেগের বিষয় হল এবারের হুমকিপত্রে মানুষের বাড়ির নম্বর এবং রাস্তার নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতি এই ধরনের হুমকি এই প্রথম দেওয়া হল। এতে কয়েক ডজন কাশ্মীরি পণ্ডিতের নাম ও সম্পূর্ণ ঠিকানা রয়েছে। সন্ত্রাসীরা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিশ্বাসঘাতক বলে আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে যে তারা দিল্লীতে থাকা তাদের মালিকদের নির্দেশে কাজ করছে।
আধিকারিকরা বলছেন, এই দুটি চিঠি কারা পাঠিয়েছে তা প্রশাসন তদন্ত করছে। চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে যে, যেসব কাশ্মীরি পণ্ডিত কাশ্মীর ছাড়েননি তাঁরা নিরাপদ, আর যারা ছেড়ে গেছেন তারা আরএসএস-এর এজেন্ডা চালাচ্ছে। আহমেদ বিলাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, "আমি আপনাদের আগেও সতর্ক করেছি এবং আমরা এই লোকদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছি।"
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই চিঠিটি ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল পাঠিয়েছে, যা লস্কর-ই-তৈবার একটি ফ্রন্ট বলে মনে করা হয়। এই ধরণের হুমকি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ভয় দেখানোর একটি প্রচেষ্টা। এর আগেও সন্ত্রাসীরা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নাম ও ফোন নম্বরসহ হুমকি দিয়েছে, যদিও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। উপত্যকায় একটি পৃথক মাতৃভূমির জন্য লড়াইরত কাশ্মীরি পণ্ডিত গোষ্ঠী ‘পানুন কাশ্মীর’ সম্প্রতি জানিয়েছে যে, এই হুমকিগুলো ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল দিয়েছে।
সম্প্রতি, কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হুমকি পাওয়ার পর সরকারি বিভাগগুলো তাদের কয়েক দিনের ছুটি দিয়েছে এবং সতর্ক থাকতে বলেছে। হুমকি দেওয়া চিঠিতে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত কর্মচারীদের নাম ও ফোন নম্বর ছিল। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কুলগামে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে আক্রমণ করে খুন করা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ (শুক্রবার) বলেছেন যে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উপত্যকায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মচারীদের পাওয়া সন্ত্রাসী হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা বারবার শুনেছি যে জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ শেষ হয়ে গেছে এবং কোনও সন্ত্রাসী অবশিষ্ট নেই, কিন্তু তাহলে এই হুমকিগুলো আসছে কোথা থেকে? নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এই হুমকিগুলোকে হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয়।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এক বা দুই বছর আগে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিশানা করে খুন করা হয়েছিল। কতজনের নাম বলব যাদের নিশানা করা হয়েছিল? অনেক কর্মচারী তো চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের কার্যত আটক করে তাদের ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল এবং গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।”

No comments:
Post a Comment